রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

খুলনার কয়রার বাঁধের কাজ না করায় এমপিকে ধাওয়া করলো জনতা

অনলাইন ডেস্ক: / ২০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার পাঁচদিন পর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রলারযোগে কয়রার দশহালিয়া যান ওই এলাকার সংসদ সদস্য খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মো: আক্তারুজ্জামান বাবু। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে কাঁদা ছুড়ে মারেন। এ অবস্থায় এমপি ট্রলার নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি আবার ঘটনাস্থলে ফিরে এলে উপস্থিতিতে লোকজন কাজ বন্ধ রেখে চলে যান। এরপর আর বাঁধ মেরামত কাজ হয়নি।

সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, তার ট্রলারে কাঁদা নিক্ষেপ করা হয়নি। স্থানীয় মানুষ চান টেকসই বেড়িবাঁধ। প্রতি বছর ভাঙ্গনে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেখানে কাজ করছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। তাকে দেখে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তাদের এ দাবি যৌক্তিক। বারবার বাঁধ ভাঙে আর বারবার স্বেচ্ছাশ্রমে তাদের কাজ করতে হয়। এ কারণে সংসদ সদস্যের ওপর তাদের ক্ষোভও বেশি।পরে সাধারণ মানুষের সাথে বাঁধ মেরামতের কাজ করা হয়েছে। তবে বাঁধটির কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, ইয়াসের পর চার দিন ধরে নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ মেরামতের কাজ করছিলেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামান বাবু একটি ট্রলারে করে ভাঙা বাঁধের জায়গায় আসেন। যখন তার ট্রলার ঘাটে ভিড়তে যায় তখনই কাঁদা ছুড়তে শুরু করেন ওখানে কাজ করা সাধারণ মানুষ। বারবার মাইকে ঘোষণা করেও তাদের নিবৃত্ত করা যায়নি। প্রায় ১০ মিনিট কাঁদা নিক্ষেপের পর ট্রলারটি পিছু হটে নদীর অপর পারে চলে যায়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে কথা বলে মানুষকে শান্ত করা হলে এমপি ভাঙা বাঁধের কাছে যান। এ সময় তিনি মাইকে স্থায়ী বাঁধ না করতে পারায় নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে তাদের সাথে বাঁধ মেরামতের কাজে লেগে যান। কিন্তু সেটা পছন্দ হয়নি সাধারণ মানুষের। অধিকাংশ মানুষ কাজ ছেড়ে চলে যান।

সেখানে সকাল থেকে ভাঙা বাঁধে সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করছিলেন কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মোহসিন রেজা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুলইসলাম, বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ছোট ভাই জিএম আবদুল্লাহ আল মামুন, নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ আরো অনেকে।

কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের সাথেই তারা কাজ করছিলেন। এমন সময় সংসদ সদস্য আসেন এবং হঠাৎ লোকজন কাঁদা ছুড়তে শুরু করে। সংসদ সদস্যের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাঁদা লাগে। চেষ্টা করেও সাধারণ মানুষকে নিবৃত্ত করা যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর মানুষ একটু শান্ত হলে সংসদ সদস্য আবার বাঁধের কাছে এসে সাধারণ মানুষের সামনে বক্তব্য দিয়ে কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করেন। তবে এরপর বাঁধের কাজ আর হয়নি। এ কারণে বাঁধ পুরোপুরি মেরামত করা যায়নি। তবে এ ঘটনা না ঘটলে বাঁধটি আজ পুরোপুরি মেরামত হয়ে যেত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর